নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 99 বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
অবহেলা ও চিকিৎসায় বিলম্ব বাড়াচ্ছে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঝুঁকি
-সংগৃহীত
ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগের প্রাথমিক ভয়াবহতা বুঝে ওঠার আগেই প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় ৬৮ শতাংশ রোগী। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না নেওয়া, বিপৎসংকেত দেখা দেওয়ার পর হাসপাতালে যাওয়া এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক ডেথ রিভিউ বা মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৩০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আইইডিসিআর কর্তৃক ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ১১৯ জন রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যাদের চিকিৎসা নেওয়ার সময়সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ রোগী উপসর্গ দেখা দেওয়ার তিন দিনেরও বেশি সময় পর চিকিৎসা নিতে গেছেন। এছাড়া ৬৬ শতাংশ রোগী ডেঙ্গুর বিপজ্জনক লক্ষণ বা বিপৎসংকেত দেখা দেওয়ার পরই কেবল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ৩৫ শতাংশ রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসি থেকে কিনে বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেছিলেন, যা তাদের শারীরিক অবস্থা আরও জটিল করে তোলে।
আইইডিসিআরের সমীক্ষা অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই অধিকাংশ রোগীর অবস্থা ছিল চরম সংকটাপন্ন। প্রায় ৭৮ শতাংশ রোগীর শরীরে ‘শক’-এর লক্ষণ ছিল এবং ৬২.৫ শতাংশের ক্ষেত্রে ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোম’ দেখা গেছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে আইসিইউতে ভর্তিকৃত রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয় এবং ভর্তি হওয়ার মাত্র ১ দিনের মধ্যেই মারা যান ৩৮ শতাংশ রোগী। পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, মৃতদের মধ্যে ৫৫ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং মোট মৃতের ৫২ শতাংশ নারী ও ৫৫ শতাংশ ছিলেন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অন্যান্য শারীরিক জটিলতা ডেঙ্গু রোগীদের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং কোনো অবস্থাতেই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ না খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে জ্বর নামার পর রক্তচাপ কমে যাওয়া, পেটে তীব্র ব্যথা বা বমির মতো বিপৎসংকেত দেখা দেওয়া মাত্রই রোগীকে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করার পরম পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
সংবাদটি সম্পাদনা করেছেন: রুবেল হাওলাদার।